গাইবান্ধা সদর থানার খামার ট্যাঙরজানী এলাকায় জমিতে ট্রাক্টর দিয়ে হালচাষ ও দড়ি খাটিয়ে কাপড় শুকানোকে কেন্দ্র করে এক যুবককে পিটিয়ে ও গলা টিপে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। গত ২১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে ঘটা এই ঘটনায় গুরুতর আহত মোঃ রাজা মিয়া (৩২) বর্তমানে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী যুবকের মা মোছাঃ আকলিমা বেগম (৪৮) বাদী হয়ে গাইবান্ধা সদর থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন বিবাদীরা তাদের বাড়ির সামনে রাস্তার পাশে কাপড়ের দড়ি খাটানোকে কেন্দ্র করে কথা-কাটাকাটি শুরু করে। একপর্যায়ে দুপুর আনুমানিক ১২:৩০ মিনিটে বিবাদী মোঃ মিলন মিয়া (৪২), মোছাঃ পারুল বেগম (৩৭), মোঃ সাদা মিয়া (৩০) সহ অজ্ঞাতনামা আরও ২/৩ জন আসামি আকলিমা বেগমের ছেলে রাজা মিয়ার ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে চড়াও হয়।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, প্রধান আসামি মিলন মিয়ার হুকুমে আসামিরা রাজা মিয়াকে এলোপাতাড়ি মারপিট করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছিলা ফোলা জখম করে। এ সময় পারুল বেগম নামের এক নারী আসামি হত্যার উদ্দেশ্যে রাজা মিয়ার মাথায় কাঠের পিড়া দিয়ে আঘাত করেন। আঘাতের ফলে রাজা মিয়ার মাথা ফেটে রক্তাক্ত জখম হয় এবং পরবর্তীতে হাসপাতালে তাঁর মাথায় ৫টি সেলাই দিতে হয়।
আহত রাজা মিয়া মাটিতে পড়ে গেলে আসামি সাদা মিয়া হত্যার উদ্দেশ্যে তাঁর বুকের ওপর বসে দুই হাত দিয়ে গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করার চেষ্টা করেন। এ সময় শোরগোল শুনে স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ নূর আলম সরকার (৫০), মোঃ মেহেদী হাসান (১৮) সহ আশেপাশের লোকজন ছুটে এসে আসামিদের কবল থেকে রাজা মিয়াকে উদ্ধার করেন। পালিয়ে যাওয়ার সময় আসামিরা ভুক্তভোগী পরিবার ও সাক্ষীদের প্রাণনাশের হুমকি দেয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
গুরুতর আহত অবস্থায় স্বজনরা রাজা মিয়াকে উদ্ধার করে দ্রুত গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করান। পারিবারিক আলোচনার কারণে থানায় অভিযোগ দিতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে জানান বাদী। এই নৃশংস হামলার সুষ্ঠু তদন্ত করে আসামিদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবারটি।


