ভারতের মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের ভোপালে ভুয়া তথ্যভিত্তিক একটি ইনস্টাগ্রাম ‘রিলস’-এর প্রভাবে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরকে হত্যার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্তরা বিশ্বাস করেছিলেন, কিশোরের অণ্ডকোষ আন্তর্জাতিক বাজারে কোটি টাকায় বিক্রি করা সম্ভব।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন দ্বিতীয় বর্ষের বিবিএ শিক্ষার্থী জোহেব খান (২০) ও আমির কুরাইশি (১৮)। তদন্তকারীদের মতে, জোহেব সাদা অ্যাপ্রন পরে নিজেকে চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দিতেন এবং সঙ্গীদের বিশ্বাস করান যে অণ্ডকোষ বিক্রি করে ১ কোটি ২০ লাখ রুপি আয় সম্ভব।
নিহত কিশোর রেহান (১৭) বাবাহীন পরিবারে মায়ের সঙ্গে থাকতেন। মা গণশৌচাগারে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন, আর রেহান শহরের ইকবাল ময়দান ও মতি মসজিদ এলাকায় কলম ও কি-চেইন বিক্রি করে সংসার চালাতেন।
পুলিশ জানায়, ৬ আগস্ট ১০০ রুপির প্রলোভন দেখিয়ে রেহানকে নির্জন ঢোবিঘাট এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে হত্যা করা হয় এবং পরে তার অণ্ডকোষ কেটে সংরক্ষণ করা হয়। তবে হত্যার পর অভিযুক্তরা বুঝতে পারে, পুরো বিষয়টি ছিল একটি গুজব। সম্ভাব্য ক্রেতা না পেয়ে তারা অঙ্গটি পানিতে ফেলে দেয়।
চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে, সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো দাবির কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই এবং এর সঙ্গে কোনো অঙ্গ পাচার চক্রের যোগসূত্রও পাওয়া যায়নি।
১০ আগস্ট ঢোবিঘাট এলাকা থেকে একটি অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ১৫ আগস্ট রেহানের মা নিখোঁজ ছেলের খোঁজে থানায় গেলে মরদেহের হাতে থাকা বিশেষ ট্যাটুর মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত হয়।
বর্তমানে পুলিশ ওই বিভ্রান্তিকর ভিডিওর উৎস খুঁজে বের করতে তদন্ত চালাচ্ছে। সূত্র:এনডিটিভি


