নাম দেওয়া হয়েছে 'মিনি জাফলং'। স্বচ্ছ পানি আর পাথুরে পরিবেশ দেখে প্রতিদিন শত শত মানুষ ভিড় করছেন গাইবান্ধার ভেরামারা ব্রিজের নিচে। কিন্তু এই মনকাড়া সৌন্দর্যের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক ভয়াবহ মরণফাঁদ। গত কয়েক বছরে এই ব্রিজের নিচে গোসল করতে নেমে প্রাণ হারিয়েছেন অনেক তরুণ, খালি হয়েছে মায়েদের বুক।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভেরামারা ব্রিজের প্রাকৃতিক দৃশ্য ছড়িয়ে পড়ার পর এটি পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম এখানে গোসল করা এবং আনন্দ উল্লাস করতে ছুটে আসে। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এখানকার পানির স্রোত এবং গভীরতার ধরণ অত্যন্ত বিপজ্জনক। যা বাইরে থেকে বোঝা সম্ভব হয় না।
ব্রিজের আশেপাশের গ্রামের বাসিন্দারা জানান,' প্রতি বছরই এখানে কোনো না কোনো দুর্ঘটনা ঘটে'।
উৎসবের আনন্দ মুহূর্তেই রূপ নেয় বিষাদে। স্থানীয় এক বাসিন্দা আক্ষেপ করে বলেন, "বাইরের মানুষ এখানে আনন্দ করতে আসে, কিন্তু আমরা জানি এই নদী কতটা ভয়ানক। প্রতি বছর এখানে লাশ পড়ে, কিন্তু কারো যেন কোনো হেলদোল নেই"।
পর্যটকদের অসচেতনতা এবং জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পানিতে নামাই এসব দুর্ঘটনার মূল কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি অবিলম্বের এই এলাকাটিকে 'বিপজ্জনক এলাকা' হিসেবে চিহ্নিত করে সাইনবোর্ড টাঙাতে হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত তদারকি বা নজরদারির ব্যবস্থা করতে হবে। পর্যটকদের পানিতে নামার ক্ষেত্রে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা প্রয়োজন।
জনস্বার্থে সকলের প্রতি অনুরোধ, দয়া করে সাময়িক আনন্দের জন্য নিজের জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলবেন না। ভেরামারা ব্রিজ এলাকায় গোসল করা থেকে বিরত থাকুন। আপনার একটি অসতর্ক মুহূর্ত যেন আপনার পরিবারের জন্য সারাজীবনের কান্না না হয়ে দাঁড়ায়।
এলাকাবাসীর দাবি, আর কোনো মায়ের বুক খালি হওয়ার আগেই ভেরামারা ব্রিজ এলাকায় প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।


