চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে।এবারের পরীক্ষায় দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে থাকা ৩১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি, অর্থাৎ এসব প্রতিষ্ঠানে পাসের হার শূন্য। গত বছর শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ১৩৪টি।সেই তুলনায় এবার সম্পূর্ণ অকৃতকার্য হওয়া প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে।
আজ সোমবার (১০ আগস্ট),সকাল ১০টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফলাফল ঘোষণা করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ.ন.ম. এহছানুল হক মিলন।এ সময় সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানরা শিক্ষামন্ত্রীর কাছে ফলাফলের অনুলিপি হস্তান্তর করেন।
ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, শূন্য পাস করা ৩১২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে,সবচেয়ে বেশি ২২৬টি মাদ্রাসার কেউ পাস করেনি।৯টি সাধারণ বোর্ডের অধীনে রয়েছে ৫৭টি প্রতিষ্ঠান,কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সবাই অকৃতকার্য হয়েছে এবং বিদেশের একটি পরীক্ষা কেন্দ্রেও কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি।
এ বছর সব বোর্ড মিলিয়ে গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬২.২৫ শতাংশ, যা গত বছরের (৬৮.৪৫%) তুলনায় ৬.২০ শতাংশ কম।চলতি বছর মোট ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন এবং ফেল করেছে ৬ লাখ ৯০ হাজার ৬০৮ জন শিক্ষার্থী।
তা ছাড়া, এবার দেশজুড়ে মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন শিক্ষার্থী, যা গত বছর ছিল ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জন।সেই হিসাবে এ বছর জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যাও কমেছে ২৩ হাজার ৩৫৬ জন।অন্যদিকে, শতভাগ পাস করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও গতবারের ৯৮৪টি থেকে কমে এবার ৬৬৯টিতে নেমে এসেছে।
সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর মধ্যে পাসের হারে এবং জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে শীর্ষে রয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড (৭১.৬৩%)।অন্যদিকে সাধারণ বোর্ডের মধ্যে সবচেয়ে নিচে অবস্থান করছে ময়মনসিংহ বোর্ড (৫৭.৩৯%)।তবে সব বোর্ড মেলালে সর্বনিম্ন পাসের হার মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে, যা মাত্র ৫৫.৪৯ শতাংশ।
শিক্ষামন্ত্রী আ.ন.ম. এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, যেসব প্রতিষ্ঠানে একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেনি, তাদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।একই সাথে আগামীকাল ১১ আগস্ট থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত ফল পুনঃনিরীক্ষণের (খাতা চ্যালেঞ্জ) আবেদন করা যাবে বলে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি জানিয়েছে।


