
উন্মোচনের লক্ষে, সত্যের পক্ষে
rpcnews.com
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাংস্কৃতিক সম্পাদক রেদোয়ান ইসলামকে জেন্ডার সংক্রান্ত তথ্য গোপনের অভিযোগে বহিষ্কারের ঘটনায় নতুন মোড় নিয়েছে। বহিষ্কৃত নেতা রেদোয়ান ইসলাম দাবি করেছেন, তিনি ট্রান্সজেন্ডার নন এবং তাকে নিয়ে ছড়ানো তথ্য পুরোপুরি গুজব।
‘রিহিয়া রিহি’ নামে একটি ফেসবুক আইডি থেকে দেওয়া পোস্টে রেদোয়ান ইসলাম লিখেছেন, “আমি ট্রান্সজেন্ডার নই। আমি একজন সম্পূর্ণ ছেলে এবং সংস্কৃতিকর্মী।” তিনি আরও বলেন, “কিছু কন্টেন্টের কারণে যদি কেউ কষ্ট পেয়ে থাকেন, তার জন্য দুঃখিত। ইতোমধ্যে সেসব কন্টেন্ট সরিয়ে ফেলেছি এবং ভবিষ্যতে আরও সতর্ক থাকব।”
রেদোয়ানের বাবা, জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “এটি গুজব। ঢাকায় কিছু কন্টেন্ট ক্রিয়েটর আছে, যারা টিকটক করে এবং ভিডিও বানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছাড়ে। রেদোয়ানও টিকটক করার জন্য কিছু ভিডিও বানিয়ে ফেসবুকে ছেড়েছিল। এসবের জন্য সে ক্ষমা চেয়ে বলেছে, ভবিষ্যতে আর এমন কিছু করবে না।”
এর আগে, ৫ এপ্রিল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক ও যুগ্ম আহ্বায়ক মামুন খান স্বাক্ষরিত একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সৈয়দাবাদ আদর্শ মহাবিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাংস্কৃতিক সম্পাদক রেদোয়ান ইসলামকে বহিষ্কারের বিষয়টি জানানো হয়। জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সমীর চক্রবর্তী জানান, রেদোয়ান ইসলাম তার জীবনবৃত্তান্তে নিজেকে পুরুষ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন, কিন্তু পরে জানা যায়, তিনি লিঙ্গ পরিবর্তন করে পুরুষ থেকে নারী হয়েছেন। তথ্য গোপন করার কারণে তাকে সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বহিষ্কার করা হয়েছে।
এ ঘটনার পর থেকে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ বিষয়টিকে ব্যক্তিগত পরিচয়ের স্বাধীনতা হিসেবে দেখছেন, আবার অনেকে তথ্য গোপনের বিষয়টিকেই মূল সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করছেন।