গাইবান্ধা শহরের প্রধান সড়কটি বর্তমানে স্থানীয় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও ভাসমান বিক্রেতাদের দখলে চলে যাওয়ায় শহরের পরিবহন ব্যবস্থা ও সাধারণ মানুষের চলাচলে চরম বাধা সৃষ্টি হয়েছে। শহরের একমাত্র প্রধান সড়কটিই যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম হলেও, এই সড়কের দুই পাশের ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালিত হওয়ায় সড়কটি সংকুচিত হয়ে পড়েছে। এর ফলে, প্রতিদিন হাজার হাজার পথচারী এবং শিক্ষার্থীদের যানজট ও অস্বস্তির মধ্যে দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, শহরের স্টেশন রোড, দাশবেকারি মোড়, সার্কুলার রোড, ডিবি রোড, খন্দকার মোড়, পুরাতন বাজার, পিকে বিশ্বাস রোড, পার্ক রোড, সাঘাটা রোড, নাকাইহাট রোড, সাদুল্লাপুর রোড এবং রেলগেট এলাকায় ফুটপাত দখল করে অবৈধভাবে ব্যবসা চালানো হচ্ছে। পৌর পার্কে চারপাশে বিভিন্ন ভাসমান দোকান বসানো হয়েছে। এর ফলে হাঁটার কোনো সুযোগ নেই, আর অনেক শিক্ষার্থী এবং পথচারীকে মূল সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে, যা প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে নারী, শিশু এবং বয়স্কদের জন্য এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
গাইবান্ধা মহিলা কলেজ, গাইবান্ধা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়, সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, এবং অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন এই যানজটের মুখোমুখি হচ্ছে। অভিভাবকরা জানান, স্কুলে যাওয়ার সময় সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে তারা সবসময় উদ্বিগ্ন। যানজট ও সড়ক জটিলতার কারণে সন্তানদের একা স্কুলে পাঠানো তাদের জন্য আতঙ্কজনক হয়ে পড়েছে।
শহরের সচেতন মহল অভিযোগ করছেন, পৌরসভার পক্ষ থেকে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করার কারণে একটি প্রভাবশালী মহল দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাত ও রাস্তা দখল করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। মাঝে মাঝে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলেও তা কখনোই স্থায়ী হয়নি। কয়েক দিনের মধ্যে আবারও দখলকারীরা তাদের জায়গাগুলো পুনরায় দখল করে নেয়।
গাইবান্ধা পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল হানিফ সরদার জানান, "আমরা বেশ কয়েকবার তাদের মৌখিকভাবে দখলমুক্ত করার জন্য বলেছি, তবে তারা শুনছে না। প্রশাসক স্যার নিজে দাঁড়িয়ে থেকে দখলমুক্ত করার চেষ্টা করেছেন, কিন্তু তা কার্যকর হয়নি। এখন প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
এ বিষয়ে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা জানান, "ফুটপাত রাস্তার একটি অপরিহার্য উপাদান, এবং যদি কোথাও ফুটপাত অপদখল হয়ে থাকে, তাহলে আমরা দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণ করব এবং যানজট নিরসন করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেব।"
শহরের পরিবহন ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে এবং সাধারণ মানুষের চলাচলে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে সড়ক দখলমুক্ত করার জন্য দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে।


