পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে ক্ষমতা থেকে সরাতে যুক্তরাষ্ট্র কলকাঠি নেড়েছিল এবং এতে সহায়তা করেছিল দেশটির সেনাবাহিনী—এমন দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অনুসন্ধানী গণমাধ্যম ড্রপ সাইট নিউজ। রোববার (১৭ মে) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, সেনাবাহিনী ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের কৌশল হিসেবে এই পদক্ষেপ নেয় এবং পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন দাবি পূরণ করে।
ড্রপ সাইট জানায়, তাদের অনুসন্ধান লিক হওয়া কূটনৈতিক তার, নথিপত্র ও অভ্যন্তরীণ সূত্রের সাক্ষাৎকারের ওপর ভিত্তি করে। প্রথমবারের মতো তারা প্রকাশ করেছে ‘কেবল আই-০৬৭৮’, যেটিকে তারা ইমরান খানকে ক্ষমতা থেকে সরানোর প্রক্রিয়ার সূচনা নথি হিসেবে দাবি করেছে। তবে মার্কিন প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসলামাবাদ ও ওয়াশিংটনের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই জটিল ছিল। ২০২১ সালে এক মার্কিন কর্মকর্তা পাকিস্তানি রাষ্ট্রদূতকে জানান, যদি ইমরান খানকে অনাস্থা ভোটে সরানো হয়, তাহলে সবকিছু ‘ক্ষমা করা হবে’। একই বছরে সিআইএ পরিচালক উইলিয়াম জে. বার্নস ইসলামাবাদ সফর করেন আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাহারের আগে পাকিস্তানের সহযোগিতা নিশ্চিত করতে। তবে ইমরান খান তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে অস্বীকৃতি জানান।
ড্রপ সাইটের দাবি অনুযায়ী, ২০২১ সালের জুলাইয়ে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ওয়াশিংটনে সাবেক এক সিআইএ স্টেশন চিফকে লবিস্ট হিসেবে নিয়োগ দেয়, যা সরকারকে না জানিয়ে করা হয়েছিল। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হলে ইমরান খান মস্কো সফরে যান, যা যুক্তরাষ্ট্র বাতিল করতে বলেছিল। পরবর্তী সময়ে ফাঁস হওয়া এক কূটনৈতিক তারে উল্লেখ করা হয়, ইমরান খানকে সরালে ‘সবকিছু ক্ষমা করা হবে’।
২০২২ সালের ৯ এপ্রিল অনাস্থা ভোটে ইমরান খান ক্ষমতা হারান। এরপর তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) কঠোর রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়ে। নির্বাচনী প্রতীক বাতিল করা হয়, শীর্ষ নেতাদের গ্রেফতার করা হয় এবং ইমরান খান বর্তমানে কারাবন্দি।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, সেনা-সমর্থিত নতুন সরকার যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠন করে। পাকিস্তান গোপনে ইউক্রেনে গোলাবারুদ সরবরাহ করে, যা আইএমএফ থেকে ৩ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা অনুমোদনে ভূমিকা রাখে। সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়া ওয়াশিংটন সফরে ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করার প্রতিশ্রুতি দেন।
২০২২ সালের নভেম্বরে জেনারেল আসিম মুনির সেনাপ্রধান হন এবং সৌদি আরবের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ৫০০ মিলিয়ন ডলারের বিরল খনিজ চুক্তি এবং গাজায় আন্তর্জাতিক স্থিতিশীল বাহিনীতে অংশ নেওয়ার প্রস্তাবও দেয় পাকিস্তান।
ড্রপ সাইটের মতে, পাকিস্তানের বর্তমান কূটনৈতিক অবস্থান কোনো হঠাৎ পরিবর্তনের ফল নয়; বরং এটি দীর্ঘদিনের মার্কিন চাপ এবং সেনাবাহিনীর রাজনৈতিক টিকে থাকার কৌশলের ফল।
সূত্র: ড্রপ সাইট নিউজ


