
উন্মোচনের লক্ষে, সত্যের পক্ষে
rpcnews.com
ধর্মীয় স্বাধীনতা লঙ্ঘন ও সংখ্যালঘু অধিকার খর্বের অভিযোগে ভারতের কট্টরপন্থি সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ (আরএসএস) এবং ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিসিস উইং (র) এর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের সুপারিশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতাবিষয়ক কমিশন (ইউএসসিআইআরএফ)।
২০২৬ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে ভারতের ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিস্থিতি অবনতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। ইউএসসিআইআরএফ তাদের প্রতিবেদনে ভারতের বিরুদ্ধে কান্ট্রি অব পার্টিকুলার কনসার্ন (সিপিসি) ঘোষণা করার সুপারিশ করেছে, যা সাধারণত এমন দেশগুলোর জন্য বরাদ্দ করা হয়, যেখানে ধর্মীয় স্বাধীনতার ক্ষেত্রে গুরুতর লঙ্ঘন ঘটে।
এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনটি ইউএসসিআইআরএফ প্রকাশ করে জানায়, ভারতে ২০২৫ সালে ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এবং তাদের উপাসনালয়গুলোকে লক্ষ্য করে নতুন আইন প্রণীত হয়েছে। বিভিন্ন রাজ্যে ধর্মান্তরবিরোধী আইন আরো কঠোর করা হয়েছে, যার ফলে কারাদণ্ডের বিধানও বাড়ানো হয়েছে।
এছাড়া, সরকার কর্তৃক ধর্মীয় শরণার্থীদের ব্যাপকভাবে আটক করা এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলায় জড়িত উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগও ওঠে। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালে বিভিন্ন ঘটনাও ঘটেছে, যেমন মহারাষ্ট্রে মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের সমাধি অপসারণের ঘটনায় সহিংসতা, ওডিশায় কোরআন অবমাননার অভিযোগে বিক্ষোভ, এবং মিয়ানমারের রোহিঙ্গা শরণার্থীদের অবৈধভাবে বহিষ্কার করা।
ইউএসসিআইআরএফ তাদের সুপারিশে ভারতের বিরুদ্ধে টার্গেটেড নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানায়, যার মধ্যে আরএসএস এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সম্পদ জব্দ এবং যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার সুপারিশ করা হয়েছে।
এদিকে, ভারতের সরকার এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং বলেছে যে, দেশের অভ্যন্তরে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সংখ্যালঘু অধিকার সুরক্ষিত রয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে ভারতকে আরো সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।