রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও আদাবর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত অভিযান, হাজার হাজার গ্রেপ্তার এবং কঠোর নজরদারি সত্ত্বেও অপরাধ পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসছে না। বিশেষ করে গত দুই বছরে বেপরোয়া হয়ে ওঠা কিশোর গ্যাংগুলো এখনও স্থানীয়দের জন্য আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে এসব গ্যাংয়ের হাতে অন্তত তিনজন নিহত এবং ১৫ জনের বেশি গুরুতর আহত হয়েছেন। একই সময়ে বিভিন্ন অপরাধে প্রায় তিন হাজার জনকে গ্রেপ্তার করা হলেও অনেকেই জামিনে বেরিয়ে আবারও অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।
স্থানীয়রা জানান, মোহাম্মদপুরে ছিনতাইকারীদের সংখ্যা অনেক। ছিনতাইয়ে বাধা দিলে তারা কুপিয়ে জখম করতেও দ্বিধা করে না। আধিপত্য বিস্তার নিয়ে নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে খুনোখুনি প্রায় নিয়মিত ঘটনা। ২০২৪ সালের ২০ সেপ্টেম্বর দুই গ্যাংয়ের সংঘর্ষে দুজন নিহত ও কয়েকজন আহত হয়। এ ঘটনায় কিশোরগঞ্জের শীর্ষ সন্ত্রাসীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মোহাম্মদপুর-আদাবর এলাকায় অর্ধশতাধিক কিশোর গ্যাং সক্রিয়। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ‘কবজি কাটা গ্রুপ’, যারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে মানুষের কবজি বিচ্ছিন্ন করার ভিডিও প্রকাশ করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। গ্রুপের প্রধান আনোয়ার হোসেন গ্রেপ্তার হলেও তাদের তৎপরতা পুরোপুরি থামেনি।
এছাড়া অ্যালেক্স ইমন গ্রুপ, পাটালি গ্রুপ, বেলচা মনির, টুন্ডা বাবু, লও ঠেলা, কালা রাসেল, ল্যাংড়া হাসান, চেতাইলেই ভেজালসহ আরও অনেক গ্যাং এলাকায় সক্রিয় রয়েছে।
সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ড ও হামলাঃ
১) ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪: আদাবর বালুরমাঠ এলাকায় রিপন ওরফে নিপুকে বাসায় ঢুকে হত্যা করে বেলচা মনির গ্রুপ।
২) ১৬ মে ২০২৪: ধানমন্ডির জিগাতলায় কলেজছাত্র সামিউর রহমান আলভীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে কিশোর গ্যাং।
৩) ৫ ফেব্রুয়ারি ও ১ সেপ্টেম্বর ২০২৪: চারজন পুলিশ সদস্যকে কুপিয়ে জখম করে পাটালি ও কবজি কাটা গ্রুপ।
৪) ৩০ জানুয়ারি ২০২৪: আদাবরে ছিনতাইয়ের সময় কবজি বিচ্ছিন্ন করে কবজি কাটা গ্রুপ।
৫) ৮ মার্চ ২০২৫: দুর্নীতি দমন কমিশনের মহাপরিচালক মোহাম্মদপুরে ছিনতাইয়ের শিকার হন।
৬) ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫: মনসুরাবাদ হাউজিংয়ের একটি কারখানায় চাঁদা না পেয়ে হামলা চালায় কিশোর গ্যাং।
পুলিশ জানায়, নিয়মিত অভিযান চালানো হলেও গ্যাং সদস্যরা দ্রুত জামিনে বেরিয়ে আবারও অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও আধিপত্য বিস্তার—সবকিছুতেই তারা সক্রিয়।
তাইতো মোহাম্মদপুরকে এখন অনেকেই “কিশোর গ্যাংয়ের আঁতুড় ঘর” বলে অভিহিত করছেন। স্থানীয়দের দাবি, কঠোর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা ও পুনর্বাসন কর্মসূচি না নিলে এ ভয়াবহতা আরও বাড়বে।


