
উন্মোচনের লক্ষে, সত্যের পক্ষে
rpcnews.com
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী সড়কে অবস্থিত এস এ কাদির এন্ড সন্স ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি সংগ্রহকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়েছে নজিরবিহীন ভিড়, যা ইতোমধ্যেই জনদুর্ভোগের রূপ নিয়েছে। মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত গাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স, সরকারি যানবাহন এমনকি গণমাধ্যমকর্মীদের ব্যবহৃত গাড়ির দীর্ঘ সারি স্টেশনটির স্বাভাবিক কার্যক্রমকে কার্যত অচল করে দিয়েছে।
সন্ধ্যা নামার পর থেকেই ভিড় বাড়তে শুরু করে, আর রাত গভীর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে। স্টেশনের ভেতর থেকে শুরু করে প্রধান সড়ক পর্যন্ত কয়েকশ’ যানবাহনের দীর্ঘ লাইন ছড়িয়ে পড়ে, যা আশপাশের এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি করে। জরুরি সেবার অন্যতম বাহন অ্যাম্বুলেন্সও এ ভিড়ের বাইরে থাকতে পারেনি—দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হওয়ায় জনমনে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বাড়ছে।
ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা চালকদের মধ্যে ক্ষোভ, হতাশা ও অনিশ্চয়তার ছাপ স্পষ্ট। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন আরও বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই তারা আগেভাগেই ট্যাঙ্ক পূর্ণ করার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন। ফলে চাহিদার চাপ হঠাৎ করেই অস্বাভাবিক মাত্রায় পৌঁছে পরিস্থিতিকে আরও সংকটাপন্ন করে তুলছে।
ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সীমিত জনবল ও সরবরাহের মধ্যেও তারা সর্বোচ্চ সক্ষমতা দিয়ে সেবা অব্যাহত রাখার চেষ্টা করছেন। তবে অতিরিক্ত চাপের কারণে সেবার গতি ব্যাহত হচ্ছে—এ কথাও তারা স্বীকার করেছেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “হঠাৎ করে বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ তৈরি হওয়ায় পরিস্থিতি কিছুটা অস্বাভাবিক হয়ে উঠেছে। শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং যানজট নিয়ন্ত্রণে পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করছে।”
তিনি আরও বলেন, “অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি সেবার যানবাহনকে অগ্রাধিকার দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে অযথা আতঙ্কিত না হয়ে ধৈর্য ও শৃঙ্খলার সঙ্গে জ্বালানি সংগ্রহের আহ্বান জানানো হচ্ছে।”
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে এ ধরনের ভিড় আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করতে পারে। এতে শুধু যানজটই নয়, জনজীবনে স্থবিরতা নেমে আসার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।