
উন্মোচনের লক্ষে, সত্যের পক্ষে
rpcnews.com
গাইবান্ধায় তীব্র জ্বালানি সংকটের কারণে ব্যাহত হচ্ছে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচল ও জীবনযাত্রা। জেলার অধিকাংশ ফিলিং স্টেশন বন্ধ হয়ে যাওয়ায়, মোটরসাইকেল চালকরা পড়েছেন চরম বিপাকে। গত মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে তেল না পেয়ে শত শত বাইকার ক্ষুব্ধ হয়ে গাইবান্ধা-পলাশবাড়ি সড়ক অবরোধ করেন। বিক্ষুব্ধ চালকদের প্রতিবাদে প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিলে, পরে অবরোধ তুলে নেন তারা।
অন্যদিকে, গাইবান্ধা শহরের কাদিরিয়া ফিলিং স্টেশনে তেল নেওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা গ্রাহকদের মধ্যে তর্ক-বিতর্কের পর সংঘর্ষ সৃষ্টি হয়।
জেলা প্রশাসন পাম্প মালিকদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেয়, প্রতিটি ফিলিং স্টেশনে তেল বিতরণের সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ উপস্থিত থাকবে। পাশাপাশি, মোটরসাইকেলে তেল দেওয়ার জন্য হেলমেট, ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং বৈধ কাগজপত্র থাকতে হবে। এরই মধ্যে শহরের কিছু ফিলিং স্টেশনগুলোতে সীমিত পরিসরে তেল সরবরাহ করা হয়।
প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি মোটরসাইকেলে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকার জ্বালানি দেওয়া হচ্ছে, যাতে অপচয় ও মজুতদারি রোধ করা যায়। তবে চাহিদার তুলনায় তেলের সরবরাহ অত্যন্ত কম হওয়ায় সংকট পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। বিশেষ করে, তেল না পেয়ে সড়ক অবরোধ, সংঘর্ষসহ বিভিন্ন সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।
একজন ভুক্তভোগী চালক জানান, "কয়েকদিন ধরে পাম্পে ঘুরেও তেল পাচ্ছি না। এতে আমাদের কাজকর্ম ও জীবিকা ব্যাহত হচ্ছে।"
অন্যদিকে, স্থানীয় বাজারে তেল পাওয়া গেলেও তা বাজারদরের চেয়ে অনেক বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। বাইকারদের অভিযোগ, পাম্প মালিকরাই গোপনে বেশি দামে তেল বিক্রি করছেন।
পাম্প মালিকদের সংগঠনের নেতারা জানান, জেলার তেলের সরবরাহ অপ্রতুল এবং অনিয়মিত। চাহিদার তুলনায় যে পরিমাণ তেল আসছে, তা দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে।
এদিকে, প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় তেল সরবরাহ বাড়ানোর জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে এবং অবৈধ মজুত ও বিক্রির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।