গাইবান্ধায় অনলাইন ক্যাসিনো ও ডিজিটাল জুয়ার নেটওয়ার্ক পরিচালনাকারী চক্রের মূল হোতা, কথিত ‘ক্যাসিনো সম্রাট’ আরিফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সদর উপজেলার খোলাহাটি ইউনিয়ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। আরিফুলের গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে ওই অঞ্চলের একটি বড় ধরনের অবৈধ জুয়ার সিন্ডিকেট উন্মোচিত হলো বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খোলাহাটি ইউনিয়নের বাসিন্দা আরিফুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় গোপনে অবৈধ অনলাইন ক্যাসিনো ও জুয়ার ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল। বিভিন্ন মোবাইল অ্যাপ ও আন্তর্জাতিক জুয়ার ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সে স্থানীয় কিশোর ও যুবসমাজকে এই সর্বনাশা খেলায় আকৃষ্ট করত। সহজ উপায়ে রাতারাতি বড়লোক হওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে শত শত স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী এবং বেকার যুবকদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে কোটি কোটি টাকা। আরিফুলের এই চক্রের খপ্পরে পড়ে অনেক পরিবার আর্থিক ও সামাজিকভাবে সম্পূর্ণ নিঃস্ব হয়ে গেছে। এলাকায় চুরি, ছিনতাই এবং পারিবারিক অশান্তি বৃদ্ধির পেছনেও এই জুয়ার সিন্ডিকেটের হাত ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
ডিবি পুলিশ জানায়, আরিফুলের এই অবৈধ অপতৎপরতার ওপর দীর্ঘদিন ধরে নজরদারি চালানো হচ্ছিল। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশের একটি চৌকস দল খোলাহাটি ইউনিয়নে অভিযান চালায়। অভিযানকালে অনলাইন জুয়া পরিচালনার জন্য ব্যবহৃত বেশ কয়েকটি স্মার্টফোন, ল্যাপটপ এবং জুয়া খেলার লেনদেন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-প্রমাণসহ আরিফুলকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আরিফুল অনলাইন ক্যাসিনো নেটওয়ার্কের সাথে তার সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে।
এদিকে বহুল আলোচিত এই ‘ক্যাসিনো সম্রাট’ গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় সচেতন মহল, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক খোলাহাটি এলাকার কয়েকজন অভিভাবক জানান, "এই জুয়ার কারণে আমাদের সন্তানরা ধ্বংসের মুখে চলে যাচ্ছিল। আরিফুলের গ্রেপ্তারে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। তবে সে একা নয়, তার পেছনে একটি বড় গডফাদার চক্র রয়েছে।" এলাকার সচেতন নাগরিকেরা এই অবৈধ জুয়া নেটওয়ার্কের সাথে জড়িত বাকি সদস্যদেরও দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার এবং আরিফুলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ডিজিটাল জুয়া এবং ক্যাসিনোর মতো সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে তাদের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। আরিফুলের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই চক্রের সাথে আর কার কার যোগাযোগ রয়েছে এবং অবৈধ উপায়ে উপার্জিত অর্থ কোথায় পাচার করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশি তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। যুবসমাজকে রক্ষায় জুয়া ও মাদকের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আপস করা হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।


