গাইবান্ধা শহরের গোডাউন রোডে অবস্থিত ৪ নম্বর সরকারি খাদ্য গুদামে চরম অব্যবস্থাপনা, অবহেলা ও নিরাপত্তার মারাত্মক ঘাটতি দেখা গেছে। গুরুত্বপূর্ণ এই সরকারি স্থাপনার মেইন গেট বা মূল ফটক উধাও হয়ে গেলেও এবং সরকারি খাদ্যশস্যের নিরাপত্তা চরম ঝুঁকিতে পড়লেও,নির্বিকার ভূমিকা পালন করছেন গাইবান্ধা সদর এলএসডি (LSD)-এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (খাদ্য পরিদর্শক) এস. এম. শাহিদ হাসান। তার এই চরম দায়িত্বহীনতা ও উদাসীনতার কারণে সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিনে পরিদর্শনে দেখা যায়, গুরুত্বপূর্ণ এই সরকারি স্থাপনাটিতে কোনো নিয়ন্ত্রিত প্রবেশপথ নেই। একটি মূল ফটক বা মেইন গেট পর্যন্ত না থাকায় যে কেউ অবাধে গুদাম প্রাঙ্গণে যাতায়াত করছে। শুধু তাই নয়, পুরো এলাকা কার্যত অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে থাকলেও সেখানে কোনো নিরাপত্তা কর্মী বা তদারকি ব্যবস্থার বালাই নেই। সরকারি কোটি কোটি টাকার খাদ্যশস্য এভাবে সম্পূর্ণ অরক্ষিত অবস্থায় ফেলে রাখাকে কর্মকর্তা শাহিদ হাসানের চরম প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও দায়িত্ব অবহেলা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
নিরাপত্তার পাশাপাশি গুদামের ভেতরের পরিবেশ নিয়ে উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন। পুরো প্রাঙ্গণ জুড়ে অপরিষ্কার ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ লক্ষ্য করা গেছে। সংরক্ষিত খাদ্যশস্যের মান বজায় রাখার জন্য যেখানে কঠোর পরিচ্ছন্নতা প্রয়োজন, সেখানে এমন নোংরা পরিবেশ সরকারি চাল-গম মজুতের গুণগত মান নষ্ট করছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এই অব্যবস্থা চললেও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহিদ হাসান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেননি। ফলে প্রতিনিয়ত চুরি, অপচয় এবং বড় ধরনের অনিয়মের আশঙ্কা বাড়ছে।
সরকারি সম্পদের সুরক্ষায় ব্যর্থতার বিষয়ে জানতে গাইবান্ধা সদর এলএসডি-এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (খাদ্য পরিদর্শক) এস. এম. শাহিদ হাসানের সাথে সরাসরি যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে কার্যালয়ে পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। দায়িত্বশীল পদে থেকে গণমাধ্যম ও জনগণের মুখোমুখি না হয়ে তার এই এড়িয়ে চলার প্রবণতা বা আত্মগোপনের চেষ্টা অনিয়মের সন্দেহকে আরও ঘনীভূত করছে।
একটি জেলার প্রধান খাদ্য গুদামের এই বেহাল দশা এবং কর্মকর্তার এমন উদাসীনতাকে সাধারণ ‘অবহেলার’ চোখে দেখছেন না স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের মতে, রাষ্ট্রীয় খাদ্য নিরাপত্তার স্বার্থে এই মুহূর্তে জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। দ্রুততম সময়ে মেইন গেট স্থাপন, সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা কর্মী নিয়োগ এবং গুদামের পরিবেশ ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি, দায়িত্ব অবহেলার দায়ে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস. এম. শাহিদ হাসানের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য খাদ্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন ভুক্তভোগী ও সচেতন নাগরিকেরা।


