নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নারীপ্রধান পরিবারগুলোর জন্য চালু হয়েছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’। মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে নগদ সহায়তা দেওয়া হবে প্রতিটি পরিবারকে। পাঁচ বছরে এ কর্মসূচিতে সরকারের ব্যয় হবে প্রায় ১ লাখ ৩৪ হাজার কোটি টাকা।
চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছর থেকেই পরীক্ষামূলকভাবে প্রকল্পের বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ১০ মার্চ এ উদ্যোগের উদ্বোধন করেন। ইতিমধ্যে ৩৭ হাজার পরিবারকে কার্ড দেওয়া হয়েছে, জুনের মধ্যে আরও ৪৮ হাজার পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তুতি চলছে।
গতকাল সচিবালয়ে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন, প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে জানানো হয়, চলতি অর্থবছরে ৮৬ হাজার পরিবারকে কার্ড দিতে ৮৬ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। এর মধ্যে ৬৬ শতাংশ ব্যয় হবে নগদ সহায়তায়, আর বাকি অংশ তথ্য সংগ্রহ ও কার্ড ব্যবস্থাপনায়।
সমাজকল্যাণসচিব মোহাম্মদ আবু ইউসুফ উপস্থাপনায় জানান, আগামী চার অর্থবছরে উপকারভোগীর সংখ্যা ধাপে ধাপে বাড়বে—২০২৬–২৭ সালে ৪১ লাখ, ২০২৭–২৮ সালে ৮১ লাখ, ২০২৮–২৯ সালে ১ কোটি ২১ লাখ এবং ২০২৯–৩০ সালে ১ কোটি ৬১ লাখ পরিবার। এ সময়ে মোট ব্যয় দাঁড়াবে ১ লাখ ৩৩ হাজার ৬১৬ কোটি টাকা।
অর্থমন্ত্রী বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বলেন, “ফ্যামিলি কার্ড শুধু সামাজিক সুরক্ষা নয়, এটি মানবিক ও দৃষ্টান্তমূলক উদ্যোগ। বাজেটে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ থাকবে।”
এদিকে অর্থনীতিবিদ সেলিম রায়হান মন্তব্য করেছেন, প্রকল্পটি প্রশংসনীয় হলেও অর্থায়নের উৎস নিশ্চিত করতে হবে। তাঁর মতে, রাজস্ব সংগ্রহ বাড়ানো এবং বিদ্যমান কর্মসূচির অপচয় কমানো ছাড়া এ ধরনের উদ্যোগ টেকসই হবে না।
ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্প নারীপ্রধান পরিবারগুলোর জন্য সরকারের বড় সামাজিক সুরক্ষা উদ্যোগ। পাঁচ বছরে ১ লাখ ৩৪ হাজার কোটি টাকার ব্যয়ে প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবারকে সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, রাজস্ব সংগ্রহ ও সঠিক উপকারভোগী নির্বাচনই হবে প্রকল্পের সফলতার মূল চাবিকাঠি।


