পুরো বিশ্ব এখন বুঁদ ফুটবল উন্মাদনায়, যার উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে বাংলাদেশেও। বাংলাদেশের দর্শকরা যেখানে মূলত ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার দ্বন্দ্বে বিভক্ত, সেখানে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশ্বমঞ্চে ভিন্ন একটি দেশের প্রতি তার সমর্থনের ইঙ্গিত দিয়েছেন।
মঙ্গলবার বিকেলে চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিএনপি বিটের সাংবাদিকদের সঙ্গে এক অনানুষ্ঠানিক মতবিনিময় সভায় মিলিত হয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় দেশের মানুষের বিশ্বকাপ উন্মাদনার প্রসঙ্গ টেনে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সিনিয়র সাংবাদিক সুমন মাহমুদ তাকে সরাসরি প্রশ্ন করেন, "আপনি কোন দেশকে সমর্থন করেন?"
উত্তরে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি কোনো দলের নাম উল্লেখ না করে কিছুটা রহস্য রেখে বলেন, "আমি দীর্ঘদিন একটি দেশে ছিলাম, বুঝতেই তো পারছেন।" এরপর প্রশ্নকর্তার দিকে তাকিয়ে হাস্যোজ্জ্বল ভঙ্গিতে বলেন, "আপনি আপনার উত্তর পেয়েছেন তো?" প্রধানমন্ত্রীর এই রসিকতাপূর্ণ মন্তব্যের পর উপস্থিত সবার বুঝতে বাকি থাকে না যে, দীর্ঘ ১৭ বছরের প্রবাস জীবনের দেশ—যুক্তরাজ্য বা ইংল্যান্ডই তার পছন্দের দল।
২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে সুপ্রিম কোর্ট থেকে জামিন নিয়ে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে সপরিবারে লন্ডনে পাড়ি জমান তারেক রহমান। সেখানে দীর্ঘ ১৭ বছরেরও বেশি সময় নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর তিনি দেশে ফিরে আসেন। দীর্ঘ সময় যুক্তরাজ্যে অবস্থানের কারণে দেশটির সংস্কৃতি এবং ফুটবলের প্রতি তার একটি স্বাভাবিক অনুরাগ তৈরি হওয়াটাই স্বাভাবিক।
রাজনৈতিক পরিবারের ক্রীড়াঙ্গনের প্রতি ভালোবাসার ইতিহাস বেশ পুরনো। ঐতিহ্যগতভাবেই তারেক রহমানের পরিবারের সঙ্গে ফুটবলের সম্পর্ক রয়েছে। প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ফুটবলের পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের একনিষ্ঠ সমর্থক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পছন্দের ক্ষেত্রে থ্রি-লায়ন্স (ইংল্যান্ড) প্রাধান্য পাওয়ায়, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও ক্রীড়াঙ্গনে তার সমর্থন নিয়ে চলছে আলোচনা ও বিশ্লেষণ।
এদিকে ফুটবলপ্রেমীদের জন্য ইংল্যান্ড তাদের বিশ্বকাপ মিশন শুরু করেছে। সব মিলিয়ে, রাষ্ট্র পরিচালনার পাশাপাশি দেশের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারকদের এমন ক্রীড়াপ্রেম ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ সাধারণ মানুষের বিশ্বকাপ উন্মাদনাকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে তুলেছে।


