গাইবান্ধা শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত 'মধ্যপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়'-এ কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য খেলার মাঠের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বিদ্যালয়ের সামনের নিচু স্থান ও জলাশয়টি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় বর্ষাকালে সেখানে পানি জমে থাকে, যা ছোট ছোট বাচ্চাদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
স্থানটি ভরাট ও সংস্কার করে মাঠ সম্প্রসারণের মাধ্যমে ছোটদের খেলাধুলার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপের জোর দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের শারীরিক বৃদ্ধি ও মনস্তাত্ত্বিক বিকাশের জন্য খেলাধুলা অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু পর্যাপ্ত মাঠ না থাকায় টিফিনের সময় বা খেলাধুলার ক্লাসে শিশুরা নিজেদের মনের মতো দৌড়ঝাঁপ করতে পারছে না।
বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ও প্রবেশপথের ঠিক সামনেই নিচু জলাশয় বা পুকুর সদৃশ স্থান থাকায় শিশু শিক্ষার্থীরা যেকোনো সময় পানিতে পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হতে পারে। বিশেষ করে ছোট বাচ্চাদের ডুবে যাওয়ার একটি সুপ্ত ঝুঁকি থেকেই যায়।
জমা পানিতে মশা-মাছির বংশবৃদ্ধি ঘটে, যা ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বিদ্যালয়ের সামনের এই পুকুর বা জমা পানির স্থানটিতে মাটি ভরাট ও ভাট বালু দিয়ে ভরাট করে মাঠটি সম্প্রসারিত করা হলে কয়েক শত শিশুর খেলার একটি চমৎকার পরিবেশ তৈরি হবে।
স্থানীয় এক অভিভাবক বলেন, "আমাদের ছেলেমেয়েরা বিদ্যালয়ে এসে শুধু শ্রেণীকক্ষেই বন্দী থাকে। বাইরে নামার মতো নিরাপদ কোনো জায়গা নেই। সামনের পুকুরটি সংস্কার করে মাটি দিয়ে ভরাট করে দিলে বাচ্চাদের খেলাধুলার খুব উপকার হতো এবং আমরাও নিশ্চিন্তে বাচ্চাদের স্কুলে পাঠাতে পারতাম।"
বিদ্যালয়টির সার্বিক শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করতে এবং কোমলমতি শিশুদের একটি নিরাপদ ও প্রাণবন্ত শৈশব উপহার দিতে অবিলম্বে এই পুকুরটি সংস্কার, মাটি ভরাট এবং মাঠ সম্প্রসারণের ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসনের প্রতি বিনীত আবেদন জানিয়েছেন এলাকাবাসী।


