৫ আগস্টের পর দলের অভ্যন্তরে প্রতিকূল পরিস্থিতি ও শীর্ষ নেতাদের অসহযোগিতার অভিযোগ তুলে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের কারণ ব্যাখ্যা করেছেন সদ্য জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দেওয়া সাবেক বিএনপি নেতা ইসহাক সরকার।
সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ওই সময় দলের কিছু নেতার আচরণ ও অনুপ্রবেশকারীদের কারণে তার এবং তার পরিবারের জীবন দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা হয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে তাকে ও তার পরিবারকে হেনস্থা করা হয়। এসব ঘটনার বিচার চাইতে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, যার ডাকে এতদিন আন্দোলন করেছি সেদিন তিনিই আমাকে তাড়িয়ে দিলেন
ইসহাক সরকার বলেন, বিচার পাওয়ার চেষ্টা করেও তিনি ব্যর্থ হন। এমনকি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা এক নেতার কাছে কষ্টের কথা জানাতে গেলে তিনি কুরুচিপূর্ণ আচরণ করে তাড়িয়ে দেন। ওই নেতার অবজ্ঞা ও তীর্যক মন্তব্য তাকে গভীরভাবে মর্মাহত করেছে, যা তিনি আজীবন মনে রাখবেন বলে জানান।
সেদিনের অভিজ্ঞতা স্মরণ করে তিনি বলেন, ওই নেতা প্রথমে তার কোনো কথাই শুনতে চাননি। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি জানান, দলের একজন কর্মী হিসেবে তার কথা শোনা উচিত ছিল। কোনো অপরাধ করে থাকলে শাস্তি মেনে নেওয়ার প্রস্তুতি থাকলেও তার ওপর হওয়া হামলা ও মিথ্যা মামলার বিষয়টি যাচাই করার অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু নেতার অবজ্ঞা তাকে হতাশ করেছে।
আগের আন্দোলন-সংগ্রামে ওই নেতার ভূমিকা প্রসঙ্গে ইসহাক সরকার বলেন, তিনি সবসময় আন্দোলনে উৎসাহ দিয়েছেন। তার ডাকেই আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নিয়েছেন। তাই এমন দুর্ব্যবহার তিনি কল্পনাও করতে পারেননি।
এছাড়া ৫ আগস্টের পর দুবার হামলার শিকার হলেও দল থেকে কোনো প্রতিকার পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি। দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও বিচার না পাওয়ার হতাশা থেকেই তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টিতে যোগ দিয়েছেন বলে সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেন।


