গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মহিমাগঞ্জে অবস্থিত রংপুর চিনিকল বন্ধ হয়ে গেছে দীর্ঘ ছয় বছর আগে। আধুনিকায়নের নামে ২০২০-২১ সালের মাড়াই মৌসুম শুরুর ঠিক আগে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশন হঠাৎ আখ মাড়াই স্থগিতের ঘোষণা দেয়। এরপর থেকে চিনিকলের ভেতরে নেমে আসে সুনশান নীরবতা। মরিচা ধরা তালাবদ্ধ দরজা আর জঙ্গলে ডুবে থাকা যানবাহন আজ সাক্ষ্য দিচ্ছে অবহেলা ও অনাদরের।
চাকরি হারিয়ে বহু শ্রমিক মৃত্যুবরণ করেছেন। যারা জীবিত রয়েছেন তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন। হাজারো আখচাষীও পড়েছেন চরম বিপাকে। আখ চাষে বিনিয়োগ করেও তারা পাচ্ছেন না কোনো ফল, ফলে হতাশা ও ক্ষতির বোঝা বেড়েই চলেছে। চিনিকল কেন্দ্রিক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
অন্তবর্তী সরকারের পক্ষ থেকে বন্ধ চিনিকলগুলো চালুর সিদ্ধান্ত নেয়া হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। স্থানীয়রা বলছেন, শুধু প্রতিশ্রুতি নয়—বেকার সমস্যা সমাধান ও আখচাষীদের হতাশা দূর করতে দ্রুত রংপুর চিনিকল চালু করা জরুরি।
রংপুর চিনিকল শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি আবু সুফিয়ান সুজা আশা প্রকাশ করে বলেন, “বর্তমান সরকার এই অঞ্চলের মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও বেকার যুবসমাজের কর্মসংস্থানের কথা বিবেচনা করে চিনিকলটি পুনরায় চালু করবে।”
চিনিকলের ইনচার্জ মোহাম্মদ শাহিনুর ইসলাম জানান, ২০২০-২১ সালে আখ মাড়াই শুরুর প্রাক্কালে চিনিকল বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকে কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে, কেবল নিরাপত্তা ও হিসাব-নিকাশের জন্য কিছু লোক রাখা হয়েছে।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা—দ্রুত রংপুর চিনিকল চালু করে শ্রমিক-কর্মচারী ও আখচাষীদের দুর্ভোগ লাঘব করা হবে।


