
উন্মোচনের লক্ষে, সত্যের পক্ষে
rpcnews.com
রাষ্ট্রপতির ভাষণ বর্জন করে বিরোধী দলের ওয়াকআউট: তিন ‘অপরাধে’র অভিযোগ জামায়াত আমিরের
নিজস্ব প্রতিবেদক | সাপ্তাহিক যুবতারা|রাজনীতি
১৩ মার্চ ২০২৬, ০৫:৫২

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভাষণ বর্জন করে অধিবেশন কক্ষ থেকে ওয়াকআউট করেছেন বিরোধী দলের সদস্যরা। গত বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) প্রথা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি যখন ভাষণ শুরু করেন, ঠিক তখনই বিরোধী দলের তীব্র প্রতিবাদের মুখে পড়েন তিনি। বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান রাষ্ট্রপতির ভাষণ বর্জনের কারণ হিসেবে তাঁর বিরুদ্ধে তিনটি সুনির্দিষ্ট ‘অপরাধে’র অভিযোগ তুলে ধরেন। সাংবাদিকদের সামনে তিনি স্পষ্টভাবে জানান যে, জুলাইয়ের শহীদদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে গঠিত এই পবিত্র সংসদে ফ্যাসিস্টের কোনো দোসর বা খুনিদের সহযোগীর বক্তব্য তাঁরা শুনতে পারেন না।
রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে প্রথম অভিযোগ হিসেবে জামায়াত আমির উল্লেখ করেন যে, তিনি অতীতের সব হত্যাকাণ্ডের সহযোগী ছিলেন। দ্বিতীয়ত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে রাষ্ট্রপতি সাবেক প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগপত্র পাওয়ার কথা স্বীকার করলেও পরবর্তীতে তা অস্বীকার করে জাতির সামনে মিথ্যাবাদী হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছেন। তৃতীয় কারণ হিসেবে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, রাষ্ট্রপতি নিজস্ব স্বাক্ষরিত অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী সংস্কার সংশোধন পরিষদের অধিবেশন ডাকতে ব্যর্থ হয়েছেন এবং এর মাধ্যমে তিনি গণভোটে অংশ নেওয়া ৭০ শতাংশ মানুষের রায়কে অবমাননা করেছেন। অর্ডিন্যান্সের শর্ত ভঙ্গ করে রাষ্ট্রপতি সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে অপরাধ করেছেন বলেও তিনি দাবি করেন।
এর আগে সংসদ অধিবেশন চলাকালে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, কোনো ফ্যাসিস্ট বা তাঁর দোসর যেন বক্তব্য দিয়ে এই সংসদকে কলুষিত করতে না পারেন, সে বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। বিরোধী দলের এই আকস্মিক ওয়াকআউট এবং রাষ্ট্রপতির প্রতি সরাসরি অনাস্থা প্রকাশের ঘটনা নতুন সংসদের প্রথম দিনেই এক উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। সংসদ নেতা তারেক রহমানের উপস্থিতিতে বিরোধী দলের এই কঠোর অবস্থান দেশের ভবিষ্যৎ সংসদীয় রাজনীতির ক্ষেত্রে একটি বিশেষ বার্তা দিচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
মুদ্রিত হয়েছে: ২১ আগস্ট, ২০২৬ এ ০২:৩৭ PM