গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় চলতি বোরো মৌসুমে ধানের উৎপাদন বাড়াতে মাঠ পর্যায়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা। কৃষকদের পাশে থেকে সরাসরি জমিতে গিয়ে তারা বোরো ধানের ক্ষতিকর ও উপকারী পোকামাকড় শনাক্ত এবং ফসলের সার্বিক স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণে কাজ করছেন।
সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে মঙ্গলবার (৬ এপ্রিল) উপজেলার নলডাঙ্গা ইউনিয়নের প্রতাপ ব্লকে আয়োজন করা হয় অতন্দ্র জরিপ কার্যক্রম। এতে অংশ নেন প্রায় অর্ধশতাধিক কৃষক, যারা মাঠেই হাতে-কলমে শিখেছেন পোকামাকড় শনাক্ত ও দমন পদ্ধতি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অপূর্ব ভট্টাচার্য, উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা আব্দুর রব সরকার, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা উত্তম কুমারসহ সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া স্থানীয় লিড ফার্মার বেলাল হোসেনও কৃষকদের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন।
অংশগ্রহণকারী কৃষক শহিদুল ইসলাম জানান, কৃষি কর্মকর্তারা সরাসরি জমিতে এসে বিভিন্ন পোকামাকড় চিনিয়ে দিয়েছেন এবং সেগুলো দমনের কার্যকর উপায় দেখিয়েছেন, যা তাদের জন্য বেশ উপকারী হয়েছে।
উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা আব্দুর রব সরকার বলেন, অতন্দ্র জরিপের মূল লক্ষ্য হচ্ছে আগাম পর্যায়ে ক্ষতিকর পোকা ও রোগ শনাক্ত করা, যাতে সঠিক সময়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যায় এবং অপ্রয়োজনীয় বালাইনাশকের ব্যবহার কমানো সম্ভব হয়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অপূর্ব ভট্টাচার্য জানান, কৃষকদের লাভজনক উৎপাদন নিশ্চিত করতে মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত কাজ চলছে। তিনি আরও বলেন, পানিপাত্র ব্যবহার করে পোকা সংগ্রহ এবং হাতজাল দিয়ে পোকা ধরার মতো কার্যকর পদ্ধতিও কৃষকদের শেখানো হচ্ছে, যা পরিবেশবান্ধব উপায়ে বালাই নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবে।
কৃষি বিভাগের এ উদ্যোগে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া পড়েছে। তারা আশা করছেন, এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে চলতি মৌসুমে বোরো ধানের ফলন আরও ভালো হবে।


