গত ১৮ জুন সাদুল্লাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে সময় টিভির হেদায়েতুল ইসলাম বাবু এবং যমুনা টিভির জিল্লুর রহমান মন্ডল পলাশ সংবাদ সংগ্রহ করতে যান।ধাপেরহাট এলাকার সরকারি ১/১ অর্পিত 'ক' তফসিলভুক্ত সম্পত্তি ব্যক্তিমালিকানাধীন দেখিয়ে প্রায় ৩ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ উত্তোলনের অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নিতে গেলে এসিল্যান্ড জসিম উদ্দিন ক্ষিপ্ত হন।তিনি সাংবাদিকদের মোবাইল জমা রাখতে বলেন, বুম ও ক্যামেরা ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেন এবং কার্যালয় থেকে বের হয়ে যেতে নির্দেশ দেন।এই ঘটনার পর রংপুর বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় থেকে ইতিমধ্যে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে
পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর এমন প্রশাসনিক চড়াও হওয়ার ঘটনা রুখতে গাইবান্ধার সাংবাদিক সমাজকে রাজপথে এবং আইনিভাবে শক্ত অবস্থানে যেতে হবে।
গাইবান্ধা জেলা প্রেস ক্লাব, সাদুল্লাপুর প্রেস ক্লাব এবং মফস্বল সাংবাদিক ফোরামসহ সব সংগঠনকে একত্রিত হয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অনতিবিলম্বে বিক্ষোভ ও মানববন্ধনের আয়োজন করতে হবে।
ঘটনার সুষ্ঠু বিচার, এসিল্যান্ডের প্রত্যাহার এবং বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থার দাবিতে জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং রংপুর বিভাগীয় কমিশনার বরাবর আনুষ্ঠানিক স্মারকলিপি প্রদান করতে হবে।
দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত স্থানীয় প্রশাসন ও ভূমি অফিসের সব ধরনের ইতিবাচক সংবাদ ও প্রেস রিলিজ প্রকাশ সাময়িকভাবে বর্জন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে।
লাঞ্ছিত সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ক্যামেরা-বুম কেড়ে নেওয়ার চেষ্টার অপরাধে স্থানীয় থানায় লিখিত অভিযোগ বা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে হবে।
যে ৩ কোটি টাকার জমি কেলেঙ্কারির তথ্য ঢাকতে এই হামলা চালানো হয়েছে, সেই দুর্নীতির তথ্য উন্মোচনে সাংবাদিকদের আরও বেশি সোচ্চার হতে হবে।তথ্য অধিকার আইন ব্যবহার করে ওই ফাইলের সার্টিফাইড কপি তোলার জন্য যৌথ আবেদন করতে হবে।
জেলার সব সাংবাদিক সংগঠনের পক্ষ থেকে একটি যৌথ প্রতিবাদলিপি স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমে পাঠাতে হবে, যা ইতিমধ্যে স্থানীয় পর্যায়ে শুরু হয়েছে।
গাইবান্ধায় কর্মরত মাঠপর্যায়ের সাংবাদিকদের নিরাপত্তার জন্য সিনিয়র সাংবাদিকদের সমন্বয়ে একটি 'কুইক রেসপন্স' বা সুরক্ষা সেল গঠন করা দরকার, যাতে ভবিষ্যতে যেকোনো সংকটে দ্রুত আইনি ও সামাজিক সহায়তা পাওয়া যায়।
সাংবাদিকদের কাজ হলো জনগণের পক্ষে দাঁড়িয়ে সত্য ও অনিয়ম তুলে ধরা. সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে তথ্য দেওয়া যেখানে এসিল্যান্ডের সাংবিধানিক দায়িত্ব, সেখানে ক্যামেরা ও বুম দেখে ক্ষিপ্ত হওয়া তাঁর নিজের দুর্নীতির সংশয়কেই আরও বাড়িয়ে দেয়।গাইবান্ধার সাংবাদিক সমাজ যদি এখন কঠোর ও ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে না পারে, তবে ভবিষ্যতে মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের পরিবেশ আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠবে।তাই দলমত নির্বিশেষে সকল গণমাধ্যমকর্মীকে এই অপশাসনের বিরুদ্ধে এক হওয়া সময়ের দাবি।


