একজন মসজিদের ইমামকে ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্ত করে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছিল। এমনকি তার পিতা, যিনি একই মসজিদের ইমাম ছিলেন, তাকেও ছেলের বিরুদ্ধে অভিযোগের কারণে চাকরি হারাতে হয়। ইমামের নাম মোজাফফর আহমদ। তিনি ফেনীতে একটি লোকাল মাদ্রাসার শিক্ষক ছিলেন।
ঘটনার সূত্রপাত ১৪ বছরের এক কিশোরীর গর্ভধারণকে কেন্দ্র করে। প্রথমে সমাজ ও পরিবার ইমামকে দায়ী করে। কিন্তু মামলার তদন্তে ডিএনএ পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়— কিশোরীর গর্ভের সন্তানের পিতা আসলে তার আপন ভাই। দুই কক্ষ বিশিষ্ট ছোট ঘরে বসবাসের কারণে মেয়েটি ও তার বড় ভাই একই কক্ষে থাকতেন, আর বাবা-মা অন্য কক্ষে।
পরবর্তীতে জানা যায়, মেয়ের ভাই পরিকল্পিতভাবে ইমামকে দায়ী করে তাকে বাচ্চাসহ বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ইমাম সাহেব নিজের নির্দোষিতা প্রমাণে সর্বোচ্চ লড়াই করেছেন। লোন করে মামলা চালিয়ে অবশেষে আদালতে জয়ী হয়ে তিনি মুক্তি পান।
এক মাস জেলে থাকার সময় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন তিনি। মিথ্যা অভিযোগ সহ্য করতে না পেরে দেয়ালে মাথা ঠুকে নিজের মানসিক অবস্থার অবনতি ঘটান। বর্তমানে তিনি মানসিকভাবে পুরোপুরি সুস্থ নন বলে জানা গেছে।
এনসিপি থেকে তারেক রেজা দায়িত্ব নিয়েছেন ইমামের লোনের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে তা পরিশোধের উদ্যোগ নিতে। হয়তো ভবিষ্যতে জনসাধারণের সহায়তার প্রয়োজন হতে পারে।
এই ঘটনা সমাজে একটি বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে— মিথ্যা অভিযোগে কত মানুষ অহরহ ফাঁসানো হয়? সবাই কি মামলা চালানোর সামর্থ্য রাখে? সবাই কি সমাজের সামনে আবার মাথা তুলে দাঁড়াতে পারে? একইসাথে এটাও সত্য যে, প্রকৃত ভুক্তভোগীরা অনেক সময় ভয়, লজ্জা বা সামাজিক চাপে মুখ খুলতে পারেন না।
তবে আলহামদুলিল্লাহ, এই ইমাম অন্তত নিজের নির্দোষিতা প্রমাণ করতে পেরেছেন। কিন্তু সমাজে এমন অনেক মানুষ আছেন, যারা সেই সুযোগ পান না।


